বাংলাদেশে বিশ্বকাপ দেখা নিয়ে সংশয় কেন? যা জানালেন বাফুফে সভাপতি
ভক্তদের জন্য সুখবর! অবশেষে ঘন কুয়াশা কাটছে। বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ সম্প্রচার নিয়ে যে অনিশ্চয়তার জোয়ার ছিল, তার অবসান ঘটতে চলেছে।
এমনিতেই দেশের মানুষ ফুটবল পাগল, বিশেষ করে বিশ্বকাপ এলে তো বাঙালির ফুটবল উন্মাদনা সপ্তম天空ে ছোঁয়। কিন্তু ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের পর আর্থিক জটিলতা ও আইনি জটিলতায় এবারের আয়োজন ঘিরে চরম সংশয় তৈরি হয়েছিল। তবে সর্বশেষ যে তথ্য উঠে এসেছে, তাতে আশার আলো দেখতে পাচ্ছেন ভক্তরা।
মূল ঘটনা ও বিশদ বিশ্লেষণ
সংশয়ের গোড়ার কথা হলো স্বত্ব বিক্রির জটিলতা। সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান স্প্রিংবক পিটিই লিমিটেড বাংলাদেশের জন্য সম্প্রচার স্বত্ব (Broadcast Rights) পেয়েছিল। কিন্তু তারা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে প্রায় ১৫১ কোটি টাকা (কর ও ভ্যাট বাবদ অতিরিক্ত প্রায় ৫০ কোটি টাকা মিলিয়ে মোট প্রায় ২০০ কোটি টাকা) দাবি করেছিল[reference:0]। এত বিশাল অঙ্কের বিনিময়ে কোনো টেলিভিশন চ্যানেলই আগ্রহ দেখায়নি। পাশাপাশি, ফিফা (FIFA) বাংলাদেশ সরকারের বিনামূল্যে সম্প্রচারের প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করে[reference:1]। ফলে তৈরি হয় অচলাবস্থা।
নেটদুনিয়ায় তোলপাড় ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া
এই খবর সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে ফুটবলপ্রেমীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। ফেসবুক, ইউটিউব আর এক্স-এ (সাবেক টুইটার) অনেকে মন্তব্য করেন, এ যেন ফুটবল উন্মাদনার দেশে ব্যঙ্গ। কেউ আবার হাস্যকর সব মিম শেয়ার করে পরিস্থিতির সমালোচনা করেন। তবে সরকারি উদ্যোগে এই অনিশ্চয়তা কাটানোর প্রচেষ্টা শুরু হলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়।
এরপর কী হতে যাচ্ছে?
সরকার ও বাফুফে (Bangladesh Football Federation - BFF) যৌথ উদ্যোগে সমস্যার সমাধানে কাজ করছে। স্প্রিংবকের সঙ্গে চুক্তি বাতিল হয়ে যাওয়ায়, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো এখন সরাসরি ফিফার সঙ্গে দরকষাকষি করার সুযোগ পাচ্ছে[reference:2]। টি স্পোর্টস ও স্টার নিউজের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট স্বত্ব কেনার প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, দরপতনের মাধ্যমে এই স্বত্বের মূল্য কমিয়ে ২-৩ কোটি ডলারের মধ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে[reference:3]।
- আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সম্প্রচার চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।
- বিটিভি, টি স্পোর্টস বা অন্য কোনো বেসরকারি চ্যানেলে বিশ্বকাপ দেখা যেতে পারে।
- হতাশার কোনো কারণ নেই, ফুটবল ভক্তরা বিশ্বকাপ উপভোগ করতে পারবেন বলেই ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
শেষ কথা
বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এই সংশয়ের জোয়ার অনেকটাই কমে এসেছে। সরকার, বাফুফে ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ প্রচেষ্টা অবশেষে ফল দিতে শুরু করেছে। আশা করা যায়, স্বল্প সময়ের মধ্যেই অফিসিয়াল ঘোষণা আসবে এবং পুরো দেশ মাতিয়ে তুলবে ফুটবল বিশ্বকাপ। টিভির পর্দায় আবারও দেখা যাবে গোল উদযাপনের আবেগ, আবারও জেগে উঠবে ফুটবল উন্মাদনা।
এই খবরটি এখনও চলমান। সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।
