সুস্থ থাকতে কখন ঘুমাবেন ও উঠবেন?

সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের জন্য সঠিক ঘুমের সময়: কখন শুলে ওঠা উচিত?

ঘুম নিয়ে আমাদের মধ্যে কম জ্ঞান নেই, কিন্তু নিয়ম মেনে ঘুমায় কে? অফিস, পড়াশোনা, সামাজিক মিডিয়া—মিলিয়ে রাত জাগাটা যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু জানেন কি, ভুল সময়ে ঘুমিয়ে ওঠাই ডেকে আনতে পারে নানা অসুখ?

সম্প্রতি বাংলাদেশের তরুণ ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যে “ঘুমের সঠিক সময়” নিয়ে গুগলে সার্চের পরিমাণ বেড়েছে কয়েকগুণ। করোনা-পরবর্তী জীবনযাত্রায় অনিয়মিত ঘুম, অনিদ্রা, আর দিনের বেলায় ক্লান্তি—এসব সমস্যায় ভুগছেন অনেকে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি স্বাভাবিক ও সুস্থ জীবনযাপনের জন্য নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং নির্দিষ্ট সময়ে ওঠার কোনো বিকল্প নেই।

প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের আদর্শ ঘুমের সময় ও ঘণ্টা

ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী একজন সুস্থ মানুষের প্রতিদিন ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। তবে শুধু ঘণ্টা নয়, কখন ঘুমাবেন সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম (Circadian Rhythm) অনুযায়ী রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে ঘুম সবচেয়ে কার্যকরী। বিশেষ করে রাত ১০টা থেকে ভোর ২টার মধ্যে গভীর ঘুম হয়। এই সময়টাতে মস্তিষ্ক নিজেকে রিপেয়ার করে, হরমোন সঠিকভাবে নিঃসৃত হয়।

তাই আদর্শ সময় হলো: রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘুমাতে যাওয়া এবং সকাল ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ঘুম থেকে ওঠা। এই রুটিন মেনে চললে সারাদিনের ক্লান্তি দূর হয়, মানসিক চাপ কমে, শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

নেটদুনিয়ায় তোলপাড়: রাত জাগার বিড়ম্বনা ও নেটিজেনদের মন্তব্য

বাংলাদেশের ফেসবুক ও এক্সে ‘ঘুমের সময়’ নিয়ে বেশ মজার মিম ও আলোচনা চলে। একজন লিখেছেন, “রাত ১০টায় ঘুমাতে গেলে আত্মীয়-স্বজন ‘অসুস্থ নাকি’ বলে ফোন করে।” আরেকজন বলেছেন, “ভোর ৪টায় উঠে ফজর পড়ি, কিন্তু রাত ১২টায় শুলেও তো আর চোখে ঘুম আসে না।”

অনেক নেটিজেন স্বীকার করছেন, সোশ্যাল মিডিয়া বা নেটফ্লিক্সের আসক্তিতেই রাত জেগে যান। কেউ কেউ রাতের বেলায় পড়তে বসে অভ্যস্ত। তবে বেশিরভাগ মন্তব্যেই দেখা যায়—জনসচেতনতা বেড়েছে, সবাই চান সঠিক সময়ে ঘুমিয়ে সঠিক সময়ে উঠতে, কিন্তু পারেন না।

ভুল সময়ে ঘুমালে কী কী ক্ষতি হতে পারে?

দীর্ঘমেয়াদে রাত জেগে অনিয়মিত ঘুমের কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থুলতা, হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। মানসিক অবসাদ, স্মৃতিশক্তি দুর্বল হওয়া এবং কাজের উৎপাদনশীলতা কমার সম্ভাবনা থাকে।

বিশেষ করে বাংলাদেশের ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষার চাপে অনেক রাত পর্যন্ত জেগে পড়েন, যা পরবর্তী সময়ে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই সময়মতো ঘুমানো ও তাজা মস্তিষ্কে পড়া—এটাই আসল স্মার্ট টেকনিক।

সঠিক ঘুমের রুটিন তৈরিতে ৫টি সহজ উপায়

  • প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান ও একই সময়ে উঠুন—ছুটির দিনেও।
  • ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে মোবাইল, ল্যাপটপের নীল আলো এড়িয়ে চলুন।
  • রাতের খাবার হালকা ও শোবার ২-৩ ঘণ্টা আগে খেয়ে নিন।
  • বেডরুম অন্ধকার, শান্ত ও ঠান্ডা রাখুন।
  • দুপুরে ২০ মিনিটের বেশি ঘুমাবেন না, তাহলে রাতে ঘুম আসতে দেরি হয়।

শেষ কথা

স্বাভাবিক মানুষ হওয়ার জন্য জরুরি একটি ভালো ঘুম। রাত ১০টা-১১টায় ঘুমিয়ে সকাল ৬টা-৭টায় ওঠার এই সহজ সূত্র মেনে চললে অর্ধেক রোগ নিজেই কমে যাবে। আজ থেকেই চেষ্টা করুন। আপনার শরীর ও মন পরে বলবে ‘থ্যাংক ইউ’।

এই খবরটি এখনও চলমান। সর্বশেষ আপডেটের জন্য আমাদের সাথেই থাকুন।

Post a Comment

Previous Post Next Post

Featured Post